Document Actions


শিক্ষার অধিকার বিল

বিলটি কি সম্পর্কে?
  • ৬ থেকে ১৪ বছরের প্রতিটি শিশুর বিনামূল্যে এবং আবশ্যিকভাবে শিক্ষাপ্রাপ্তির অধিকার আছে। সংবিধানের ৮৬ তম সংশোধনের ২১এ আর্টিকল্‌ এ এটা বলা আছে। শিক্ষার অধিকার বিল এই সংশোধনকে কার্যকরী করার প্রচেষ্টা।      
  • সরকারী বিদ্যালয় সবশিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেবে এবং বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি দ্বারা সেগুলি পরিচালিত হবে। বেসরকারী বিদ্যালয়ে ২৫%ছাত্র বিনামূল্যে ভর্তি করা হবে।   
  • জাতীয় মৌলিক শিক্ষা আয়োগ গঠিত হবে গুণগত মানসহ শিক্ষার সমস্ত দিক দেখাশোনার জন্য

সমগ্র বিলটির বিষয়বস্তু পড়া যেতে  যেতে পারে এখানে

শিক্ষার অধিকার 2009 আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

বিলটির ইতিহাস

ডিসেম্বর ২০০২
৮৬ তম সংশোধিত আইন, আর্টিকল্‌ ২১এ(পার্ট ৩ ) এর মাধ্যমে ৬ থেকে ১৪ বছরের সমস্ত শিশুদের আবশ্যিকভাবে এবং বিনামূল্যে শিক্ষার মৌলিক অধিকার ঘোষনা করে।
অক্টোবর ২০০৩
উপরোক্ত আর্টিকল্‌ বক্তব্যের একটি প্রথম খসড়া আইন, অর্থাত্‌ শিশুদের বিনামূল্যে এবং আবশ্যিকভাবে শিক্ষার মৌলিক অধিকার বিল, ২০০২ তৈরী করা এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় ওক্টোবর ২০০৩ এ এবং এই ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় সামগ্রিকভাবে জনগণের বক্তব্য ও মতামত আমন্ত্রণ করে।
২০০৪
পরবর্তীকালে, খসড়াটির উপর প্রাপ্ত মতামতসমূহ বিবেচনা করে, বিনামূল্যে আবশ্যিক শিক্ষা বিল, ২০০৪ নামে একটি পরিবর্তিত খসড়া প্রস্তুত করা হয় এবং http://education.nic.in ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।   
জুন ২০০৫
সিএবিই (শিক্ষাবিষয়ে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পর্ষদ) ‘শিক্ষার অধিকার’ বিলটির খসড়া করে জনশক্তি বিকাশ মন্ত্রকে জমা দেয়। এমএইচআরডি সেটাকে এনএসি, যার সভাপতি শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী, এর কাছে পাঠিয়ে দেয়। এনএসি বিলটিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেয়।  
১৪ই জুলাই ২০০৬
অর্থ বিষয়ক সমিতি ও পরিকল্পনা পর্ষদ বিলটিকে বাতিল করে দেয় অর্থের অভাব বলে এবং সব রাজ্যে বিলের প্রতিরুপ পাঠিয়ে দেয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। (৮৬ তম সংশোধনের পরে সব রাজ্যই রাজ্যস্তরে অর্থাভাবের কথা জানিয়েছিল।)
১৯শে জুলাই ২০০৬
সিএসিএল, এসএএফই, এনএএফআরই, সিএবিই একটি পরিকল্পনা সভায় আইএলপি এবং অন্যান্য সংস্থাকে আহবান করে লোকসভার আলোচনার ফলাফল পর্যালোচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বোঝানোর প্রছেষ্টা এবং জেলা ও গ্রাম স্তরে কি করণীয় তার দিক-নির্দেশ এর প্রচেষ্টার জন্য।



শিক্ষার অধিকার: প্রায়শঃ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কেন এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতবর্ষের পশ্চাদপটে এটার কী মানে

শিশুদের বিনামূল্যে আবশ্যিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ পাশ করা (আরটিএ) ভারতবর্ষের শিশুদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত।

এই আইনটি গঠনের সোপান হিসাবে নিশ্চিত করে শিশুর উচ্চমানের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্তির দাবী(অধিকার হিসাবে) এবং রাষ্ট্র,পরিবার ও সম্প্রদায়ের সাহায্যে সেটা পূরণ করে।

পৃথিবীর খুব অল্প দেশে জাতীয় ব্যবস্থা আছে এরকম বিনামূল্যে, শিশুকেন্দ্রি্‌ক, শিশুবান্ধব শিক্ষাদানের।

বিনা মূল্যে আবশ্যিক প্রাথমিক শিক্ষা কী?

৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে সব শিশুদের প্রতিবেশের কোন স্কুলে মূল্যহীন এবং আবশ্যিক প্রাথমিক শিক্ষা পাবার অধিকার আছে।

আবশ্যিক শিক্ষা পাবার জন্য প্রত্যক্ষ (স্কুলের বেতন) বা পরোক্ষ মূল্য (একই ধরনের পোষাক, বই, মধ্যাহ্নে খাবার,যানবহন) শিশু বা পিতামাতা বহন করবে না। সরকার একটি শিশুর আবশ্যিক শিক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিনা মূল্যে স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করবে।

আরটিই নিশ্চিত করতে সমাজ এবং পিতামাতাদের কি ভূমিকা থাকবে

নতুন যুগ সৃষ্টি করা, শিশুদের বিনামূল্যে আবশ্যিক শিক্ষার (আরটিই)এ্যাক্ট ২০০০,‌ভারতবর্ষের শিশুদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত চিহ্নিত করে। ভারতর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম রাষ্ট্র, পরিবার ও সম্প্রদায়ের সাহায্যে, শিশুদের উচ্চমানের প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার দানের অঙ্গীকার করে।

পৃথিবীর খুব কম দেশে এরকম জাতীয় ব্যবস্থা আছে, শিশুকেন্দ্রিক, শিশুবান্ধব শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যাতে সব শিশুরা তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌছোতে পারে। ২০০৯ সালে ভারত বর্ষে অনুমিত ৮ থেকে ১৪ বছরের ৮ মিলিয়ন স্কুলে না যাওয়া শিশু ছিল। পৃথিবী ভারতবর্ষকে ছেড়ে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পৌছোতে পারবে না।

স্কুলগুলি স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করবে, যার মধ্যে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, পিতামাতারা, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা থাকবে। এসএমসি স্কুল উন্নয়ন পরিকল্পনা বানাবে এবং সরকারী অনুদানের ব্যাবহার এবং সম্পুর্ণ স্কুলের পরিবেশ পর্যবেক্ষন করবে।

আরটিই এসএমসি-তে ৫০%মহিলা এবং দুর্বল শ্রেণীর লোককে অন্তর্গত করতে বলে।এভাবে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ একটা পুর্ণাঙ্গ স্কুল পরিবেশের সৃষ্টি করবে। মেয়েদের ও ছেলেদের জন্য আলাদা শৌচাগার এবং স্বাস্থ্য, জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থার প্রতি যথেষ্ট নজর রেখে।

কেন এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতবর্ষের পশ্চাদপটে এটার কী মানে

সব স্কুল নিশ্চয়ই পরিকাঠামো এবং শিক্ষকগনের ছাঁচ মেনে চলবে কার্যকরী শিক্ষার পরিবেশের জন্য। প্রাথমিক স্তরে প্রতি ৬০ জন ছাত্রের জন্য দুজন করে শিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকবে।

শিক্ষকদের স্কুলে হাজিরা দিতে হবে নিয়মিত এবং সময়মতো। পাঠাংশের নির্দেশ শেষ করতে হবে, শিক্ষার ক্ষমতা নির্ণয় করতে হবে এবং নিয়মিত পিতামাতা ও শিক্ষকদের মিটিং করতে হবে। শিক্ষকের সংখ্যা শ্রেণী দিয়ে না হয়ে ছাত্র সংখ্যা দিয়ে হতে হবে।

রাষ্ট্র শিক্ষকদের যথেষ্ট সহায়তা করবে যাতে শিশুদের শিক্ষার ফল উন্নত হয়। এসএমসি-র সাথে সম্প্রদায় এবং সভ্য সমাজেরও একটা দায়িত্বপূর্ণ অংশ আছে ন্যায়পরায়নতার সাথে স্কুলের মান এবং নিশ্চিত করার জন্য। রাষ্ট্র নীতিগত কাঠামো দেবে এবং একটা সক্ষম পরিবেশ সৃষ্টি করবে প্রতিটি ছাত্রের জন্য আরটিই নিশ্চিত করতে।

ভারতে আরটিই-র অর্থসংস্থানেবং রুপায়ন কী করে হবে।

এই আইনটি গঠনের সোপান হিসাবে নিশ্চিত করে শিশুর উচ্চমানের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্তির দাবী(অধিকার হিসাবে) এবং রাষ্ট্র, পরিবার ও সম্প্রদায়ের সাহায্যে সেটা পূরণ করে।

পৃথিবীর খুব অল্প দেশে জাতীয় ব্যবস্থা আছে এরকম বিনামূল্যে, শিশুকেন্দ্রি্‌ক, শিশুবান্ধব শিক্ষাদানের।

কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার আরটিই-র আর্থিক দায়িত্ব ভাগ করে নেবে।কেন্দ্রীয় সরকার খরচের আনুমানিক হিসাব করবে। রাজ্য সরকারকে এই খরচের কিছুটা শতকরা অনুপাত ডোয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ কমিশনকে অনুরোধ করতে পারে রাজ্য সরকারকে কিছু বাড়তি সম্পদ দিতে যাতে রাজ্য সরকার আরটিই-র কাজ গূলো করতে পারে।

রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হবে বাকী অর্থের সংস্থান করা। মাঝখানে একটা অর্থসংস্থানের ফাঁক থাকবে, সেটার জন্য সভ্য সমাজ, উন্নয়নকারী সংস্থা, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং দেশের নাগরিকদের সহায়তা দরকার।

আরটিই পাওয়ার প্রধান বিষয় গুলি কী কী

আরটিই এ্যাক্ট ১লা এপ্রিল থেকে চালু হবে। খসড়া নিয়মগুলি রাজ্যগুলির জানানো হয়েছে, তাদের কে নিজেদের রাজ্যের নিয়ম বানিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘোষনা করতে হবে। .

আরটিই যেখানে পৌছানো যায়নি সেখানে পৌছানোর একটা উপযুক্ত মঞ্চ দেয়, দুর্বল শ্রেণীর জন্য বিশেষ সুযোগসহ, যথা শিশুশ্রমিক, স্থানান্তরিত শিশুসমূহ, বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন শিশুসমূহ অথবা যাদের “সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, ভৌগলিক, ভাষাগত, লিংগগত বা এধরনের কারনে অসুবিধা আছে”। আরটিই ভাল মানের শিক্ষণ এবং শেখার প্রতি নজর দেয় যার জন্য বেশী চেষ্টা এবং যথাযথ সংস্কার দরকার হয়:

  • এক মিলিয়নের বেশী নতুন এবং পরিশিক্ষণ না পাওয়া শিক্ষককে পাঁচ বছরে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কর্মরত শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো যাতে শিশুবান্ধব শিক্ষা দেওয়া যায়, সৃষ্টিমূলক এবং বহনীয় উদ্যোগ দরকার।
  • ভারতবর্ষের অনুমিত ১৯০ মিলিয়ন মেয়ে এবং ছেলে, যাদের আজ বিদ্যালয়ে হওয়া উচিত্‍‍ ছিল, তাদের শিশুবান্ধব শিক্ষার জন্য পরিবারগুলিএবং সম্প্রদায়সমূহেরও বিরাট কর্তব্য আছে।
  • মান এবং ন্যায়পরায়নতার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য অসমতা দুর করতে হবে।
  • আট মিলিয়ন বিদ্যালয়ে না যাওয়া শিশুকে বয়সানুপাতিক স্তরের শ্রেণীতে আনা এবং বিভিন্ন সহায়তার সাহায্যে বিদ্যালয়ে রাখতে সফল হওয়া একটা বিরাট বাধা যার জন্য নমনীয় এবং উদ্ভাবনমূলক প্রচেষ্টা দরকার।

আরটিই লঙ্ঘিত হলে কী উপায় আছে

শিশুর অধিকার রক্ষার জাতীয় কমিশনT এই আইনের অধীনে প্রদত্ত অধিকার রক্ষা নিরীক্ষণ করবে, অভিযোগের তদন্ত করবে এবং কোন মামলার বিচার বিষয়ে দেওয়ানি আদালতের সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।

রাজ্যগুলিকে ১লা এপ্রিল থেকে ৬মাসের মধ্যে শিশুর অধিকার রক্ষার জন্য রাজ্য কমিশন (এসসিপিসিআর) অথবা শিক্ষার অধিকার রক্ষা কর্তৃপক্ষ (আরইপি)গঠণ করতে হবে।অভিযোগ দায়ের করতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অবশ্যই জমা করবে।

আবেদনগুলি এসসিপিসিআর/আরইপিএ দ্বারা নির্দ্ধারিত হবে।অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য উপযুক্ত সরকার অনুমোদিত আধিকারিকের সন্মতি লাগবে।

আরটিই কী ক্করে সক্রিয়তায় পরিনত হবে

অসমতা দূর করার জন্য এবং মান ও ন্যায়পরায়নতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা দরকার। সরকার, সমাজ শিক্ষক প্রতিষ্ঠান,প্রচার-মাধ্যমএবং প্রসিদ্ধব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রাসংগিক স্বার্থসম্পন্নদের একসাথে করার ভূমিকা নেবে ইউনিসেফ।

ইউনিসেফ জনগনের অবগতির জন্য অংশীদার যোগাড় করবে এবং সক্রিয়তার জন্য ডাক দেবে। নীতি এবং অনুক্রমের নকশা/রুপায়ন শিক্ষার প্রাপ্যতা এবং মান উন্নয়নে জোর দেবে যার উপর ভিত্তি করে শিশুদের জন্য ভাল ফল পাওয়া যায়। অংশীদারদের সাথে কাজ করে ইউনিসেফ জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের নিরীক্ষণ সমিতি জোরদার করবে।

উত্স: ইউনিসেফ



ভারতবর্ষ শিক্ষা বিলটি অনুমোদন করে

ভারতীয় সংবিধানের সংশোধনের ৬ বছর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা শিক্ষার অধিকারের বিলটি অনুমোদন করে। আবশ্যিকভাবে এবং বিনামূল্যে শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হওয়ার আগে বিলটি এখন লোকসভায়     পেশ করা হবে।         
 
স্বাধীনতার ৬ যুগ পরে ভারত সরকার শিক্ষার অধিকার বিলটি অনুমোদন করেছে যা ৬ থেকে ১৪ বছরের সব শিশুর জন্য আবশ্যিক ও বিনামূল্যে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার করেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা বহু বিলম্বিত শিক্ষার অধিকার বিল, যা সব শিশুকে বিনামূল্যে এবং আবশ্যিকভাবে শিক্ষাদানের অঙ্গীকার করে, অনুমোদন করেছে। এই পদক্ষেপ দেশের শিক্ষা ব্যবস্হাকে জোরদার করেছে।

বিলটির মূল ব্যবস্হার মধ্যে আছেঃ প্রারম্ভিক স্তরে প্রতিবেশের প্রতিকুল অবস্হায় থাকা বাচ্চাদের জন্য বেসরকারী স্কুলে ২৫% সংরক্ষণ। সরকার তাদের জন্য স্কুলের খরচ প্রত্যর্পণ করবে, ভর্তির জন্য কোন চাঁদা বা ক্যপিটেসন ফি দিতে হবে না এবং ছেঁকে নেওয়ার জন্য কোন বাচ্চা বা পিতামাতাকে প্রশ্ন করা হবে না।

বিলটি কোন শিশুকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া, বিতারণ, আটক রাখা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে এবং শিক্ষাদান সংক্রান্ত ছাড়া অন্য কাজে শিক্ষকদের লাগানো, জনগণনা, নির্বাচন বা দুর্যোগকালে ত্রাণকার্য ছাড়া, নিষিদ্ধ করে। ঠিকমত নথিভুক্ত না করে স্কুল চালানো শাস্তিযোগ্য হবে।
বিষয়টি শিশুদর প্রতি একটি জরুরী অঙ্গীকার, যে শিক্ষা মৌলিক অধিকার হবে, বিবেচনা করে অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন বিনামূল্যে আবশ্যিকভাবে শিক্ষাদান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আইনগত প্রযোজ্য কর্তব্য হবে।
তিনি আরও বলেন যে জনশক্তি মন্ত্রক নির্বাচনআয়োগের সাথে আলোচনা করে বিলের বিষয়বস্তু প্রকাশ করবে, কয়েকটি রাজ্যের বিধানন্সভা নির্বাচন সামনেই মনে রেখে।
বিলটিকে যাচাই করার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর দল (জিওএম) এমাসের গোড়ায় খসড়াটি অনুমোদন করেছে, কোন বিষয় হালকা না করেই, যার মধ্যে বিতর্কের সম্ভাবনাপূর্ণ বেসরকারী স্কুলে প্রারম্ভিক স্তরে ২৫% সংরক্ষণের বিষয়টিও আছে। অনেকে এটাকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব মেটানোর জন্য বেসরকারী ক্ষেত্রকে লাগানোর মত মনে করছেন।

শিক্ষার অধিকার বিল ৮৬তম সাংবিধানিক সংশোধন, যা ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের বিনামূল্যে ও আবশ্যিকভাবে শিক্ষাপ্রাপ্তির অধিকার দেয়, তার স্বপক্ষে প্রণয়িত আইন। কিন্তু এটা করতে ৬১ বছর লেগেছে।
১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী যখন সর্বজনের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, সেটাও আজকের মত একইভাবে অর্থাভাবের অজুহাতের প্রাচীরে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। সংবিধান বিষয়টা রাষ্ট্রের কাছে একটা অস্পষ্ট আবেদন হিসাবে, যে ১৪ বছরে নীচের শিশুদের আবশ্যিকভাবে ও বিনামূল্যে শিক্ষাদানের চেষ্টা করতে হবে, ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিদ্যালয় আজও যথেষ্ট নেই।
মাত্র ২০০২সালে সংবিধানের ৮৬ তম সংশোধনে শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসাবে পরিগণিত হয়েছে।
২০০৪ সালে, তখনকার সরকার, এনডিএ, একটা বিলের খসড়া বানিয়েছিল, কিন্তু সেটা প্রণয়ন করার আগেই নির্বাচনে হেরে যায়।       
বর্তমান ইউপিএ সরকারের খসড়া বিল, অর্থসংস্থানের প্রশ্ন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ছোড়াছুড়ি হতে থাকে।       

বিলের সমালোচকেরা বয়সের প্রশ্ন তোলেন। ওরা বলেন ৬ বছরের ছোট এবং ১৪ বছরের বড় শিশুদের অন্তর্গত করা উচিত্‌। তাছাড়া সরকার শিক্ষকের অভাব এবং মান, নতুন বিদ্যালয় ছেড়েই দিয়ে বর্তমান বিদ্যালয়গুলিতে পরিকাঠামোর অভাব, ইত্যাদি বিষয়গুলিতেও নজর দেয়নি

বিলটি আগে আইন এবং অর্থমন্ত্রক থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল রাজ্যসমূহ কর্তৃক অর্থবরাদ্দের বিষয় নিয়ে। আইন মন্ত্রকের ধারনা ছিল সমস্যা আসবে ২৫% সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে, যেখানে জনশক্তি বিকাশ মন্ত্রকের হিসাবে খরচ দেখানো হয়েছে প্রতিবছরে ৫৫০০০ কোটি টাকা।


শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পথনির্দেশিকা

ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটসকে (এনসিপিসিআর) নিঃশুল্ক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার(আরটিই) আইনের শর্তাবলীর প্রতি নজর রাখার মাধ্যম হিসাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে৷ আরটিই আইনটি যাতে আক্ষরিক ভাবে ও প্রকৃত অর্থে কার্যকর হয় তার জন্য এনসিপিসিআর প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভাগসমূহ, সাধারণ সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের একটি সম্মিলিত মতামত নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ এটি একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছে যাতে আছেন বিভিন্ন সরকারি বিভাগের আধিকারিকবৃন্দ, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, যার সাহায্যে শিক্ষার অধিকার যথাযথভাবে কার্যকর করার পথনির্দেশিকায় মনোনিবেশ করা যায়৷

              ensure_chld_right.jpg

এই কমিটি এখন পর্যন্ত চারটি অধিবেশন করেছে এবং আরও ভালোভাবে নজরদারি করার জন্য একটি পরিকল্পনার নকশা তৈরি করেছে৷ এর মধ্যে রয়েছে এনসিপিসিআরের ভিতরে একটি পৃথক বিভাগ তৈরি করা হয়েছে যা কেবলমাত্র শিক্ষার অধিকারের প্রতিই মনোযোগ দেবে। দুজন কমিশনার এই বিভাগটির সমন্বয় সাধন করবেন এবং এর যাবতীয় কর্মকাণ্ডে সাহায্য করার জন্য সম্পূর্ণ পৃথক কর্মীবৃন্দ থাকবেন৷ এই বিভাগটি মানব সম্পদ বিকাশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চলবে বে ও তার থেকে সহায়তা পাবে।
মানব সম্পদ বিকাশ মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কের পন্থাও নির্ণয় করতে হবে যাতে তারা আরটিই আইনের সার্থক প্রবর্তন ও নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য একযোগে কাজ করতে পারে৷

তৃতীয় আর একটি কৌশল যা সুপারিশ করা হয় তা হল রাজ্য প্রতিনিধি নিয়োগ যাঁরা বিভিন্ন রাজ্যে এনসিপিসিআরের "চোখ ও কান " হিসাবে কাজ করবেন৷ এই প্রতিনিধিরা সাধারণ সমাজের সদস্য হবেন যাঁদের শিক্ষাক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকবে এবং এঁরা তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে আইনটির প্রবর্তন সম্বন্ধে এনসিপিসিআরকে তথ্য সরবরাহ করবেন৷ তাঁরা নিজেদের রাজ্য থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলি সম্পর্কে খোঁজ রাখবেন।
আরও বেশি সমন্বয় ও সমধর্মিতার জন্য অন্য যে সব মন্ত্রক আরটিই আইনের দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের আধিকারিকদের সঙ্গেও অধিবেশন ডাকা হয় যেমন সামাজিক ন্যায় ও শক্তি মন্ত্রক, শ্রম মন্ত্রক, জনজাতি বিষয় মন্ত্রক এবং পঞ্চায়েতী রাজ মন্ত্রক৷ উদাহরণ স্বরূপ, আরটিই আইন শিশু শ্রম আইনের ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থ বহন করে এবং শ্রম মন্ত্রকের একটি ভূমিকা আছে৷ একই ভাবে, অন অগ্রসর উপজাতি বিষয় মন্ত্রক দ্বারা চালিত স্কুলগুলিও আরটিই আইনের আওতায় আসবে৷ সুতরাং, আরটিই থেকে শিশুদের লাভ পেতে হলে এনসিপিসিআর ও এই মন্ত্রকগুলির মধ্যে উন্নত সমন্বয় ও যোগাযোগ থাকা জরুরি৷

এনসিপিসিআর আরটিইর আরও ভাল নজরদারির জন্য যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য ন্যাশনাল কমিশন যেমন ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন, ন্যাশনাল কমিশন ফর শেডিউলড কাস্টস অ্যাণ্ড শেডিউলড ট্রাইবসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মিলিত হয়েছে৷ উদাহরণ স্বরূপ, প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মেয়েরা যাতে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনগুলি কি ভাবে একযোগে কাজ করতে পারে৷ আরও সুপারিশ করা হয় যে, এনসিপিসিআর আয়োজিত প্রকাশ্য শুনানিগুলিতে, সংশ্লিষ্ট কমিশনের একজন প্রতিনিধিকে জুরিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যাতে প্রভাব আরও বেশি দৃঢ় করা যায় ৷

সারা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত সাধারণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি অধিবেশন করা হয় যাতে এই আইনের শর্তাবলী ও তার উপরে নজরদারি বিষয়ে আলোচনা করা হয়৷ ২০ টি রাজ্যের প্রতিনিধিগণ এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন ৷ এটি ছিল এনসিপিসিআর আয়োজিত সাধারণ সমাজের সঙ্গে একগুচ্ছ অনুরূপ অধিবেশনের প্রথমটি যাতে রাজ্য প্রতিনিধি নিয়োগের বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা যায়৷
তবে, আইনটি আরও ভালভাবে কার্যকর করা ও তার উপর নজরদারির জন্য , দেশে আরও বেশি সচেতনতার প্রয়োজন যাতে সব প্রতিষ্ঠানগুলি এর শর্তগুলি বুঝতে পারে ও কাজে পরিণত করতে পারে৷ তা করতে হলে একটি বিশাল প্রচার ক্যাম্পেন শুরু করতে হবে, আইনটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সহ, সম্ভব হলে মানব সম্পদ বিকাশ মন্ত্রক ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে৷ ক্যাম্পেনে ব্যবহার করা যায় এমন বস্তু তৈরি করে এনসিপিসিআর এই কাজটি শুরু করে দিয়েছে যাতে আছে আইনটির একটি সরল সংস্করণ, পোস্টার, প্রাইমার ও প্যামফ্লেট যেখানে মৌলিক শর্ত ও অধিকারগুলি বর্ণিত হয়েছে ৷ এরা শিশুদের জন্যও বিশেষ বস্তু তৈরি করবে যাতে তারাও আইনটি বুঝতে পারে৷


শিক্ষার অধিকার বিল 2005

Powered by Plone CMS, the Open Source Content Management System

এই সাইটটি নিম্নলিখিত স্ট্যান্ডার্ডগুলি কে কনর্ফাম করে